হোমিওপ্যাথিক পরীক্ষার প্রস্তুতি
হ্যান্ডনোট — মেটেরিয়া মেডিকা
প্রশ্ন সমাধান — DHMS Exam 2022
প্রশ্ন ১/ক) মেটেরিয়া মেডিকা বলতে কী বুঝ? উহা পাঠের প্রয়োজনীয়তা লিখ।
মেটেরিয়া মেডিকা:
মেটেরিয়া মেডিকা পাঠের প্রয়োজনীয়তা:
১(খ) হোমিওপ্যাথিক ঔষধের উৎসগুলো সম্পর্কে লিখ।
হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা ও এলোপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকার মধ্যে পার্থক্য।
| হোমিওপ্যাথিক মেটিরিয়া মেডিকা | অ্যালোপ্যাথিক মেটিরিয়া মেডিকা |
|---|---|
| ১। মহাত্মা হ্যানিম্যান ইহা রচনা করেন। | ১। মহাত্মা হ্যানিম্যানের অনেক কাল পূর্ব হইতেই ইহা প্রচলিত। |
| ২। সুস্থ মানবদেহে ঔষধ পরীক্ষা করিয়া লক্ষণসমূহ লিপিবদ্ধ করা হইয়াছে। | ২। সুস্থ মানব দেহে এই ঔষধগুলি পরীক্ষিত নয়। ইতর প্রাণীর উপর ঔষধ পরীক্ষা করা হইয়াছে। |
| ৩। ইহাতে এক সময়ে একটিমাত্র ঔষধ প্রয়োগের কথা বলা হইয়াছে। | ৩। ইহাতে একবারে অনেকগুলি ঔষধ এবং মিশ্রিত ঔষধের কথাও বলা হইয়াছে। |
| ৪। মায়াজমের উপর ভিত্তি করিয়া দলগতভাবে এই ঔষধগুলিকে ভাগ করা হইয়াছে। | ৪। রোগের নামের উপর ভিত্তি করিয়া দলগতভাবে এই ঔষধগুলিকে ভাগ করা হইয়াছে। |
| ৫। কোন ব্যক্তি বিশেষের অনুমানের বা মতামতের উপর ভিত্তি করিয়া এই গ্রন্থ লিখিত হয় না। (সংশোধিত) | ৫। এই মেটিরিয়া মেডিকায় ব্যক্তি বিশেষের অনুমান ও মতামত বা কল্পনা স্থান পাইয়াছে। |
| ৬। শক্তিকৃত ঔষধ সূক্ষ্মমাত্রায় ব্যবহারের কথা এখানে বলা হইয়াছে। | ৬। ইহাতে স্থূলমাত্রায় ব্যবহারের কথা বলা হইয়াছে। |
| ৭। রোগীর ব্যক্তি স্বাতন্ত্রের উপর ভিত্তি কোরিয়া ইহাতে ঔষধ প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। | ৬। রোগের নামের উপর ভিত্তি কোরিয়া ইহাতে ঔষধ প্রয়োগের কথা বলা হইয়াছে।। |
হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষ পরীক্ষা ২০২২ এর মেটেরিয়া মেডিকা বিষয়ে আরো প্রশ্ন ও উত্তর দেখুন।
২.ক.প্রশ্ন : ইথুজার চরিত্রগত লক্ষণ বর্ণনা কর।
উত্তর :
- দুধ বা দুধে প্রস্তুত কোনও প্রকার দ্রব্য শিশুর সহ্য হয় না। দাঁত উঠিবার কিম্বা গ্রীষ্মের সময় শিশুদের কলেরা, উদরাময়, বাহ্য, বমি, খেঁচুনি, তড়কা প্রভৃতি।
- দুধ খাইবার কিছু পরে চাপ চাপ বমি কিম্বা অনতিপরেই সজোরে বমি, বমির পর নেতাকাতা হইয়া পড়া, কিছুক্ষণ তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব।
- খাইবার ১ ঘণ্টার পর বমি সবুজ বমি।
- অত্যন্ত দুর্বলতা, মাথা তুলিতে পারে না।
- গরম কালে শিশুদের অত্যন্ত অবসন্নতার সহিত রোগ দেখা দেয়।
- মাতা যতক্ষণ না খাট হইতে সন্তানকে কোলে নেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সন্দেহ করেন না যে, শিশু পীড়িত হইয়াছে, কয়েক ঘণ্টা পূর্বেও সে ভাল ছিল।
7। শিশুদের পিপাসাহীনতা, কিন্তু ক্ষুধা বেশী।
8। তড়কা, মৃগীর মত খেঁচুনি, বুড়ো আঙ্গুলে মুঠা, মুখ লালবর্ণ, চক্ষু তারকা স্থির ও বড় হওয়া, মুখে ফেনা, দাঁতি লাগা, নাড়ী দ্রুত ও শক্ত।
9। নড়াচড়া ও ঘুমের পর বৃদ্ধি, খোলা বাতাসে উপশম।
10। হিস্টিরিয়া রোগীর মনে হয় যেন ঘরের মধ্যে একটি ইঁদুর দৌড়াইতেছে।
২/ খ) ইথুজার উৎস এবং হ্রাস-বৃদ্ধি লেখ।
ইথুজার উৎস: হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ইথুজা সাইনেপিয়াম (Aethusa cynapium) গার্ডেন হেমলক নামক এক প্রকার গাছ হতে প্রস্তুত হয়। এই গাছ সমগ্র ইউরোপে জন্মে।
ইথুজার হ্রাস: ইথুজা রোগীর সমস্যা কমে মুক্ত বায়ু সেবনে, দুগ্ধ বর্জনে, বিশ্রামে, সঙ্গী থাকলে।
ইথুজার বৃদ্ধি: ইথুজার রোগ
লক্ষণ বৃদ্ধি পায় —
- দুধ পান করলে/পানাহারের পর
- সন্ধ্যায় ও গরমে
- গ্রীষ্মকালে
- ভোর ৩টা থেকে ৪ টার দিকে।
প্রশ্ন-২.গ.। শিশু উদরাময়ে ইথুজার লক্ষণ লিখ।
বা, ইথুজার পাকাশয়িক লক্ষণ বর্ণনা কর।
উত্তর : গরমের দিনে বা দন্তোদগমকালীন শিশুরা ভেদ বমিতে আক্রান্ত হইয়া পড়ে। দুগ্ধ পানের পরেই অজীর্ণ দুগ্ধ বা ছানা কাটার মত চাপ চাপ বমি হয়। ঐ বমনের সহিত তরল, সবুজাভ ও হলুদে চটচটে মল ত্যাগ হইতে থাকে। শিশুরা পীড়িত হইলে তাহাদের মস্তিষ্কের উপদ্রব দেখা দেয়, পাকস্থলী ক্রিয়াহীন হইয়া পড়ে, অন্ত্রপথ শিথিল হয়, যাহাই খাওয়ানো হয় তাহা হয়ত বমন হইয়া উঠিয়া যায়, নচেৎ মলরূপে নির্গত হয়। বাহ্য সামান্য হলদে বর্ণের কিম্বা অল্প সবুজ, বাহ্যের সঙ্গে পেট বেদনা, বেগ ও কুন্থন থাকে। অনেক সময় আম ও রক্ত মিশ্রিত থাকে। প্রায়ই দেখা যায় শিশুদের এইরূপ পুনঃ পুনঃ বাহ্য হইয়া পীড়া ক্রমশঃ কলেরায় দাঁড়ায়, তখন দুগ্ধ সহ্যই হয় না। চাপ চাপ বমি হইয়া বমির পর শিশু অত্যন্ত দুর্বল হইয়া পড়ে এবং তন্দ্রাভিভূত হয়।
প্রশ্ন-৩.ক। ক্যামোমিলার চরিত্রগত লক্ষণ বা পরিচায়ক লক্ষণাবলী বর্ণনা কর।
উত্তরঃ ক্যামোমিলার চরিত্রগত লক্ষণ বা পরিচায়ক লক্ষণাবলী—
- ইহার শিশু ভয়ানক বদমেজাজী। রাগ ও বিরক্তির জন্য পীড়ার উৎপত্তি।
- দিনরাত শিশু ঘ্যান ঘ্যান করে, এাঁ-ওটা চায়, দিলে আবার ফেলিয়া দেয়। কোলে কোলে বেড়াইতে চায়।
- খোলা বাতাস সহ্য হয় না, পীড়া হয়। ইহার যন্ত্রণা গরমে, ঠাণ্ডা প্রয়োগে, ঠাণ্ডা বাতাসে কিছুতেই উপশম হয় না, বরং বৃদ্ধি পায়।
- যে কোন বেদনাই হোক, রোগী সহ্য করিতে পারে না। কাতর হইয়া পড়ে। কেহ সান্ত্বনা দিলে আরও অসহ্য হয়।
- শুষ্ক কাশি, রাত্রে ঘুমানোর সময় কাশির বৃদ্ধি, শীতকালে ও ঠাণ্ডা বাতাসে পুরাতন কাশির বৃদ্ধি। কাশির সময় একদিকের গণ্ড লাল, অন্য গণ্ড ফ্যাকাশে, রক্তশূন্য ও ঠাণ্ডা।
- পানাহারের সময় মুখে ঘাম।
- দন্তশূলে-গরম পানি মুখে লইলে যন্ত্রণার বৃদ্ধি হয়, বহিবায়ু আসিয়া উত্তপ্ত ঘরে প্রবেশ করিলে দন্তশূল বাড়ে।
- দন্তোদগমকালীন উদরাময়, বাহ্যের রং সবুজ, তরল এবং উহাতে ডিম পচার ন্যায় অত্যন্ত দুর্গন্ধ। মল গরম, মলদ্বার হাজিয়া যায়।
৯। পেটে বেদনা, মলদ্বার টানি। পেটে বায়ু জমা হেতু শূল বেদনা, পেট খুব ফোলে। বায়ু নির্গত হইলেও পেট ফোলার উপশম হয় না।
১০। সর্ব শরীরে ঠাণ্ডা কিন্তু মুখমণ্ডল ও নিঃশ্বাস গরম।
১১। রক্ত প্রদরে রক্ত ঘোর লাল ও জমা জমা। রক্তস্রাব থাকিয়া থাকিয়া হয়। ক্রোধের পর ঋতুশূল।
১২। অসের কাঠিন্য, সেজন্য অসহনীয় প্রসব বেদনা, প্রসব বেদনার সহিত মানসিক উত্তেজনা।
১৩। সন্তানকে দুধ দেওয়ার সময় এবং দুধ খাওয়ানো শেষ হইলে স্তন হইতে দুধ চোয়াইয়া বাহির হইতে থাকে (কোনিয়াম)।
প্রশ্ন- ৩.খ। ক্যামোমিলার গর্ভকালীন পীড়ার লক্ষণ লিখ।
বা, প্রসব বেদনায় ক্যামোমিলার ব্যবহার লিখ।
উত্তর : ক্যামোমিলা- গর্ভকালেও ক্যামোমিলা সফলতার সহিত ব্যবহৃত হয়। অনিয়মিত সংকোচন, মিথ্যা প্রসব বেদনা ভুল স্থানে অনুভূত হয়।
বেদনা পৃষ্ঠের দিকেই বেশী অনুভূত হয়। অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, কর্তনবৎ, ছিন্নকর, উচ্চ চিৎকারকারক সংকোচন। ডাক্তার, ধাত্রী এমনকি বেদনাকেও রোগী গালাগালি করে। বেদনা একবার এখানে, আবার অন্যখানে আঁকড়াইয়া ধরে এবং খাল ধরা থাকে। ইহাতে বুঝা যায় জরায়ুর কতকগুলি তন্তু একদিকে এবং অপর কতকগুলি আর একদিকে সংকুচিত হইতেছে। গর্ভকালই স্ত্রীলোকদের চিকিৎসার উপযুক্ত সময় এবং এই সময়েই বিশৃঙ্খলা জ্ঞাপক লক্ষণগুলি প্রকাশিত হয়।
প্রসবকালে, প্রসবক্রিয়া চলিতে থাকার সময় এবং প্রসব অন্তে ক্যামোমিলার যে সকল লক্ষণ উপস্থিত হয়, তাহা অনিয়মিত সংকোচন বালি ঘড়ির ন্যায় থাকিয়া থাকিয়া সংকোচন, জরায়ু মুখের কঠিনতা। রোগী বলে যে, সে আর বেদনা সহ্য করিতে পারিবে না এবং সেই সঙ্গে কোঁথানি, ছটফটানি, রাগিয়া চিৎকার করা, অসম্মানজনক কথা বলা প্রভৃতি লক্ষণ থাকে। প্রসবের পর ভ্যাদাল ব্যথা। প্রসবান্তিক রক্তস্রাব, যতবারই শিশুকে স্তন্য দান করা হয় ততবারই জরায়ুতে খাল ধরে। পৃষ্ঠে খাল ধরে, ক্যামোমিলা ইহার যে কোনটিকে বা দুইটিকেুই আরোগ্য করে।
প্রশ্ন-৩.গ। কর্ণশূলে ক্যামোমিলার ব্যবহার/লক্ষণ লিখ।
উত্তর: কর্ণ অত্যন্ত ব্যথাযুক্ত, সেই সঙ্গে পিণ্ড আরক্তিম। কটকটানি বেদনা। রোগী কানে সামান্য মাত্র উত্তাপ সহ্য করিতে পারে না। সেই সাথে অসহিষ্ণুতা, ক্রোধ, কোপন স্বভাব প্রভৃতি মানসিক লক্ষণগুলি বর্তমান থাকে।এই লক্ষণগুলোতে ক্যামোমিলা ব্যবহার করা হয়। ে
অতিরিক্ত জানুন: প্রশ্ন- জ্বর পীড়ায় ক্যামোমিলার লক্ষণ লিখ।
উত্তর: জ্বরে উত্তাপ ও শীত যেন মিশ্রিত থাকে। জ্বরে খুব উত্তাপের সহিত ঘাম হয়, বিশেষতঃ মাথায় ঘাম হয়। জ্বরে গাত্রত্বক আর্দ্র অথচ এত গরম যেন পুড়িয়া যাইতেছে। পিপাসা হয়, এক গাল লাল ও গরম, অন্য গাল বিবর্ণ দেখায়।
Post a Comment