হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় নাক্স ভমিকা (Nux Vomica) লবণের মত ব্যবহার করা হয়। হোমিওপ্যাথির এক-তৃতীয়াংশ রোগ চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হয়। নাক্স ভমিকাকে পুরুষের ঔষধও বলা হয়। এটি সেবনে ক্ষুধা, বল ও রতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
Nux Vomicaনাক্স ভূমিকা কি?
উত্তর : আমাদের দেশের কুঁচিলা বীজ চূর্ণ হইতে প্রস্তুত-ইহার সর্বপ্রধান বীর্য স্ত্রীকনিয়া এক প্রকার তীক্ষ্ণসার এবং তীব্র বিষ। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা জগতে নাক্স ভূমিকা বড়ই সমাদৃত। আমাদের দৈনন্দিন আহার্য লবণের মত হোমিওপ্যাথিতে ইহা ব্যবহৃত হয়। অল্প মাত্রায় নাক্স ভূমিকা সেবনে ক্ষুধা, বল ও রতিশক্তি বৃদ্ধি।
নাক্স ভূমিকার বিষ লক্ষণ লিখ।
উত্তর : নাক্স ভূমিকা সামান্য অধিক মাত্রায় সেবন করিলে ইহা মেরুদণ্ডের উপর ক্রিয়া প্রকাশ করে। গ্রীবা ও চোয়ালের পেশীর আক্ষেপ উপস্থিত হয় এবং হাত পা কাঁপিতে থাকে। শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট বোধ হয় কিছুক্ষণ পর অন্যান্য পেশীরও আক্ষেপ জন্মে। বিষ মাত্রায় ইহা সেবন করিলে ধনুষ্টঙ্কার রোগের ন্যায় অবস্থা উপস্থিত হয়। গ্রীবার পেশীর আক্ষেপ হেতু মস্তক পিছনের দিকে বক্র হইয়া যায়, চোয়াল শক্ত হইয়া হাত শক্ত হইয়া যায় এবং হাতের তালু মুষ্টিবদ্ধ থাকে। যেহেতু সমস্ত পেশীসমূহের আক্ষেপ জন্মে তাই সমস্ত শরীর ধনুকাকারে থাকার পর শরীর কিছুটা শিথিল হইয়া পড়িয়া ৮/১০ মিনিট পর পুনরায় আক্ষেপ উপস্থিত হয়। বার বার আক্ষেপ হেতু শরীর দুর্বল হইয়া পড়ে, নাড়ী ক্ষীণ হয় বা কখনও শ্বাসরোধ হইয়া মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
নাক্সের রোগীর স্বভাব ও গঠন চিত্রিত কর। বা, নাক্স ভমিকার ধাতু কিরূপ? বা, নাক্স ভমিকার প্রয়োগ ক্ষেত্র লিখ। বা, কোন ধরনের রোগীতে নাক্স ভমিকা উপযোগী?
উত্তর : এই ঔষধ স্ত্রীলোকদের চেয়ে পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশী উপযোগী। রোগী কৃশ, রাগী, সতর্ক, ঝগড়াটে, হিংসুক, পরের অনিষ্টকারী, খিটখিটে, পিত্ত বা রক্তপ্রধান, শীতকাতুরে, স্নায়বিক দুর্বল, উত্তেজনাপ্রবণ, সুরাপানাসক্ত, মাদকসেবী ও অলস ব্যক্তিদের পক্ষে বিশেষ উপযোগী। মাতাল ও যাহারা অজীর্ণ ও অর্শরোগে ভোগে তাহাদের পক্ষেও ইহা উপযোগী। যে সকল ব্যক্তি কোনরূপ শারীরিক পরিশ্রম না করিয়া বসিয়া বসিয়া পড়াশোনা করে, বিষয়কর্মে লিপ্ত থাকে, মদ ও গরম মশলাযুক্ত মাংস ইত্যাদি গুরুপাক দ্রব্য প্রায়ই সেবন করে, যাহাদের প্রায়ই কোষ্ঠবদ্ধতা থাকে, সেজন্য জোলাপ লইতে হয়, প্রাতঃকালে ঘুম হইতে উঠার পর ক্লান্তি অনুভূত হয়, মনে নানা প্রকার বিশৃঙ্খল চিন্তার উদ্রেক হওয়াতে অধিকরাত্রি পর্য্যন্ত নিদ্রা হয় না, সেই সকল রোগীর পক্ষে নাক্স ভমিকা উপযোগী।
নাক্স ভমের প্রধান ক্রিয়াস্থান কোথায় লিখ।
উত্তর : স্নায়ু ও পিত্ত প্রধান ধাতুবিশিষ্ট ক্ষীণকায় রোগী ইহার ক্রিয়ার ক্ষেত্র। পৃষ্ঠ বংশীয় স্নায়ুগুচ্ছ এবং গতিশক্তি ও জ্ঞান শক্তি বিধায়িনী এবং চৈতন্য উৎপাদক স্নায়ুমূলে ইহা ক্রিয়া করিয়া থাকে। পরিপোষণ ও পুষ্টি সাধনযন্ত্রের উপর, পাকশয়, যকৃৎ, অন্ত্র, মূত্রাশয় ও জরায়ুর ইহার বিশেষ ক্রিয়া প্রকাশ করে।
নাক্স ভমের পীড়ার উৎপত্তি কিভাবে হইয়া থাকে?
উত্তর : অনেক দিন ধরিয়া গরম মসলা খাইয়া, গুরুপাক খাদ্যাদি আহার করিয়া, অধিক দিন ধরিয়া বেশী মাত্রায় বিভিন্ন ঔষধ সেবন করিয়া, কোকেন, আফিম, তামাক, দোক্তা প্রভৃতি মাদক দ্রব্যাদি ব্যবহার করিয়া কোন পীড়ার উৎপত্তি হইলে নাক্স ভমিকা প্রয়োগ করিতে হয়।
নাক্স ভমিকার প্রয়োগকাল কখন?
উত্তর : হ্যানিমান বলেন যে প্রাতঃকালে অভুক্তাবস্থায় অথবা নিদ্রা হইতে উঠিয়াই প্রথমে আহারের অব্যবহিত পূর্বে বা পরে কিংবা মানসিক পরিশ্রম
কালে নক্স ভমিকা সেবন করা উচিত নয়। সন্ধ্যাকালে সেবন করিলেই নক্স ভমিকার উত্তম ক্রিয়া দর্শে।
নক্স ভমের মানসিক লক্ষণ বর্ণনা কর।
উত্তর : নক্স ভমের মানসিক লক্ষণ-
অত্যধিক মানসিক পরিশ্রম হেতু পীড়া। রোগী কাম ও ক্রোধের প্রতিচ্ছবি।
রোগী অতি সহজেই রাগিয়া উঠে, হিংসা ও ঘৃণায় তাহার অন্তর পরিপূর্ণ থাকে।
রোগী একাকী থাকিতে চায়। অত্যধিক মানসিক পরিশ্রম হেতু মোনধিক্কার।
অন্যের ভাল দেখিতে পারে না, নিজেকে খুবই গর্বিত মনে করে।
সব সময় মনে করে নিজে যাহা করে তাহাই ঠিক, অন্যে যাহা করে তাহা ভুল।
মনে হয় মাথাটি অত্যন্ত বড় হইয়া গিয়াছে।
মসলাযুক্ত খাদ্য পছন্দ, ব্যায়াম পছন্দ করে না। কোন কাজ করিতে চায় না।
নক্স ভমের চরিত্রগত বা প্রদর্শক লক্ষণ বর্ণনা কর।
উত্তর : নক্স ভমের চরিত্রগত বা প্রদর্শক-
রোগীর বার বার মল ত্যাগের চেষ্টা, কিন্তু পরিষ্কারভাবে মল ত্যাগ হয় না।
উত্তেজক দ্রব্য আহার হেতু পীড়া। অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম, রাত্রি জাগরণ বা মাদকদ্রব্য সেবনজনিত শরীরের প্রতি অত্যাচার হেতু শিরঃপীড়া। সকাল বেলায় শিরঃপীড়া শুরু, দিনে বাড়িতে থাকে এবং সন্ধ্যা বেলায় ক্রমেই কমে। সেই সাথে কোষ্ঠবদ্ধতা, টক বমি।
খাওয়ার পর পেট ফুলিতে থাকে, মুখে অম্ল আস্বাদ, মুখে পানি উঠা, পেটে বেদনা, পেট যেন পাথরের ন্যায় শক্ত, মুখে তিক্ত বা টক পানি উঠে।
৪। প্রাতঃকালে, আহারের পর এবং ধূমপানে গা বমি বমি। মনে হয় বমি করিতে পারিলে একটু শান্তি হইবে।
৫। শেষ রাত্রির দিকে নিদ্রা ভঙ্গ হইয়া নানা প্রকার চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকে। আবার প্রভাত হইলেই তন্দ্রা আসে। নিদ্রা হইলে স্বপ্নদোষ, নিদ্রাভঙ্গের পর অবসন্নতা।
৬। পিঠে ও কোমরে বেদনা-পাশ ফিরিলে তাহার বৃদ্ধি ঘটে।
৭। আহারের ২/১ ঘণ্টার পর উদরশূল।
৮। একবার কোষ্ঠবদ্ধতা, একবার উদরাময়। কোষ্ঠবদ্ধতায় অতি কষ্টে স্বল্পমাত্র মল বাহির হয়।
৯। কাশি শুষ্ক এবং কষ্টদায়ক, ইহার সহিত তলপেট টাটাইয়া থাকে।
১০। দিনে নাক হইতে সর্দি ঝরে কিন্তু রাত্রে নাক বন্ধ থাকে।
১১। গায়ে অত্যন্ত তাপ, যেন গা জ্বলিয়া যাইবে। কিন্তু গায়ের কাপড় খুলিলেই শীত বোধ।
১২। মুখের অর্ধেক অংশে ঘাম।
১৩। জিহ্বার প্রথম দিক পরিষ্কার কিন্তু শেষের দিকে ময়লা।
১৪। গয়ারে পচা গন্ধ থাকে। খাদ্য, পানীয় সব কিছুতেই পচা গন্ধ বোধ।
১৫। মদ ও চর্বি জাতীয় খাদ্য খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
নাক্স ভমের প্রয়োগ ক্ষেত্র লিখ।
উত্তর : অজীর্ণ, কোষ্ঠকাঠিন্য, উদরাময়, আমাশয়, হিক্কা, শূল বেদনা, লিভার পীড়া, মদ্য পানের মন্দ ফল, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাদ্য ও অত্যধিক রতিক্রিয়ার মন্দ ফল, ন্যাবা, হার্নিয়া, অর্শ, জ্বর পীড়া, প্রস্রাবের পীড়া, প্রমেহ, মুখ ব্রণ, সর্দি কাশি, স্ত্রী রোগ, হিষ্টিরিয়া, দন্ত ও কর্ণপীড়া, হাঁপানি, স্বপ্নদোষ প্রভৃতি ক্ষেত্রে নাক্স ভমিকা প্রয়োগ হয়।
আধুনিক জীবনযাত্রার বিবিধ বিষয়ের নিমিত্ত নাক্স ভমিকা একটি অপরিহার্য ঔষধ-আলোচনা কর।
উত্তর : হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা জগতে নাক্স ভমিকা বড়ই সমাদৃত। আমাদের দৈনন্দিন আহার্য লবণের মত হোমিওপ্যাথিতে ইহা ব্যবহৃত হয়।
মানবদেহের প্রায় এক তৃতীয়াংশ রোগ ইহার দ্বারা আরোগ্য লাভ করে। কোন রোগীতে ঔষধ নিরূপণ করিতে না পারিলে প্রথমেই নাক্স ভমিকা প্রয়োগ করিলে কোন অসুবিধা সৃষ্টি হয় না।
আমেরিকার ডাঃ বোরিক বলেন যে, নাক্স ভমিকা আধুনিক জীবনের প্রতিকৃতি অর্থাৎ বর্তমান কালে লোকে জীবন যাত্রা নির্বাহের জন্য সমস্ত দিন ধরিয়া অতি পরিশ্রম ও অত্যধিক চিন্তা করে, বসিয়া বসিয়া লেখাপড়া ও কাজ কর্ম করে। দৈহিক পরিশ্রম আদৌ করে না। সুতরাং সন্ধ্যা সময়ে ফূর্তির জন্য চা, কফি, অহিফেন, সুরা ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ ব্যবহার করে এবং উহার সাথে মাংসাদি গুরুপাক দ্রব্য আহার ও ইন্দ্রিয় পরিচালনাও করে। কাজেই রাত্রি জাগরণ এবং অনিদ্রা আসিয়া জোটে। ফলে পরদিন প্রাতঃকালে ক্লান্তি, অরুচি, কোষ্ঠবদ্ধতা উপস্থিত হওয়াতে ভিন্ন ভিন্ন ঔষধ দ্বারা জোলাপ লইয়া থাকে। এইভাবে ক্রমে ক্রমে নানা রোগ জর্জরিত হইয়া কষ্ট ভোগ করিয়া থাকে। এই সকল লক্ষণ দূর করিতে একমাত্র নাক্স ভমিকাই সক্ষম। পুরুষ জীবনেই এইরূপ ঘটনা ঘটিয়া থাকে, তাই এই ঔষধকে পুরুষের ঔষধও বলা হয়।
আধুনিক জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য আমাদেরকে কর্মের তাগিদে দেশ বিদেশে ঘুরিতে হয়। ফলে বাহিরের অর্থাৎ হোটেল, রেস্টুরেন্টের নানা প্রকার গুরুপাক মসলা সমন্বিত খাবার, বাসি খাবার প্রভৃতির উপর নির্ভর করিতে হয়। এই সকল আাহারের ফলে পাকস্থলীর গোলযোগ দেখা দিলেই নানা প্রকার পেটেন্ট ও উত্তেজক ঔষধ ব্যবহার করিয়া থাকি। এই সকল ক্ষেত্রে নাক্স ভমিকা অতীব ফলপ্রদ।
বস্তুতঃ বর্তমান যুগে মানুষের ভোগ বিলাসের দিকে খেয়াল একটু বেশী। তাই চা, কফি, তামাক, মদ, গাঁজা প্রভৃতি মাদক দ্রব্য সেবনে, নানাবিধ মসলাযুক্ত গুরুপাক দ্রব্য ভজনে, বেশ্যাসক্ততা এবং কবিরাজী ও এলোপ্যাথিক ঔষধের অপব্যবহারে লোকের স্বাস্থ্য এরূপ বিকৃত ও ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছে যে নাক্স ভমিকা ভিন্ন তাহাদের শরীর শোধরাইবার আর কোন উপায় নাই। অতিশয় মানসিক চিন্তা ভাবনা, অত্যধিক পাঠ করা, বসিয়া বসিয়া সময় কাটান, বহুদিন যাবত শারীরিক শ্রম বিহীন কার্য করা ইত্যাদি কারণে যে সকল ব্যাধি হয়, তাহা আরোগ্য করিতে নক্স ভূমিকাই ক্ষমতা রাখে। বাস্তবিক নক্স ভূমিকা নানা প্রকার ঔষধ অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের কুফল নষ্ট করিয়া শরীর মধ্যস্থ যন্ত্রসমূহের সামঞ্জস্য আনিয়া থাকে। ইহা স্ত্রী পুরুষ উভয়ের জননেন্দ্রিয়ের উপর সবিশেষ কার্য করিয়া থাকে। সে জন্যই আধুনিক জীবনযাত্রা নিমিত্ত নক্স ভূমিকা একটি অপরিহার্য ঔষধ।
নক্সের পাকস্থলী পীড়ার লক্ষণ লিখ। বা, অজীর্ণ ও উদরাময়ে নক্স ভূমিকার লক্ষণ লিখ।
উত্তর : অতি ভোজন ও বিভিন্ন প্রকার গুরু ভোজনের ফলে অজীর্ণ রোগে এবং রাত্রি জাগরণ, মদ্যপান, অমিতাচার হেতু উদরাময় হইলে বিশেষ করিয়া প্রাতঃকালে যদি তাহার বৃদ্ধি ঘটে তাহা হইলে নক্স ভূমিকাই উপকারী। রোগীর পাকস্থলী খুব উত্তেজিত থাকে। রোগী যাহা খায় তাহা ভালোভাবে হজম না হইয়া পেটে বেদনা হয়। এই বেদনা কামড়ানি ও খামচা মারার ন্যায়। যখন কোষ্ঠবদ্ধতা থাকে, তখন ঘন ঘন বাহ্যের চেষ্টা হইয়াও মল নির্গত হয় না। কোন কিছু খাওয়ার পর পেট মোচড় দিয়া সঙ্গে সঙ্গেই বমি হয়। পেটে বায়ু সঞ্চার ঘটে। পেটে শূল বেদনার সহিত প্রাতঃকালীন উদরাময়। এই বেদনার সহিতই উদরাময় শুরু হয়, অনেক সময় উদরাময়ের সহিত টক বমিও হয়। পেটের বেদনা গরম পানীয় পানে নিবৃত্তি হয়। বাহ্য পানির মত তরল নতুবা লাল হড়হড়ে। পরিমাণে অল্প হয়, তৎসহ ঘন ঘন বাহ্যের বেগ। নক্সের অনবরত বেগ থাকে। শৌচ কর্মের পরও বেগের নিবৃত্তি হয় না। পুনরায় পায়খানায় বসিতে হয়।
কোষ্ঠবদ্ধতায় নক্সের লক্ষণ লিখ।
উত্তর : কোষ্ঠকাঠিন্যে নক্স ভূমিকা একটি মহোপকারী ঔষধ। রোগী অনবরত মল ত্যাগের ইচ্ছা করে কিন্তু পরিষ্কারভাবে মলত্যাগ হয় না। প্রতিবারেই মনে করে আর একটু পায়খানা হইলে শান্তি হইত। এইরূপ কোষ্ঠবদ্ধতার ফলেই নানা পীড়ার উৎপত্তি হয়। সরলাস্ত্রের অনিয়মিত পেরিস্টলটিক ক্রিয়া হেতু কোষ্ঠকাঠিন্যতা নক্স ভূমিকার প্রধান লক্ষণ। লাইকোপোডিয়ামের লক্ষণও অনেকটা নক্সের মত। পেটে খুব বায়ু জমে।
নাক্সের বায়ু নিচের দিকে ঠেলে সেজন্য ঘন ঘন বাহ্যের বেগ হয়। খাওয়ার পর পেটে বেদনা ও যন্ত্রণা নাক্স ভূমিকা হইতে লাইকোতে বেশী।
নাক্স ভমের ন্যায় নিষ্ফল মলবেগ কার্বোভেজেও আছে। কিন্তু তাহা বায়ু নিঃসরণেও উপশমিত হয়। ব্রায়োতে কোষ্ঠবদ্ধতায় মল ত্যাগের ইচ্ছা আদৌ থাকে না। ইহাতে বৃহৎ শুষ্ক কঠিন মল নির্গত হয়। এলুমিনায় সরলাস্ত্রের সুস্পষ্ট নিষ্ক্রিয়তা-নরম মল নির্গমণেও কষ্ট। ওপিয়ামে অস্ত্রের নিষ্ক্রিয়তা হেতু কোষ্ঠবদ্ধতা, শক্ত গোল কালচে বর্ণের মল নির্গত হয়। যাহারা জোলাপ গ্রহণ করে তাহাদের বেলায়ও নাক্স উপকারী।
প্রশ্ন: আমাশয় পীড়ায় নাক্সের লক্ষণ লিখ।
উত্তর: মশলাযুক্ত খাদ্য গ্রহণ, রাত্রি জাগরণ, উত্তেজক ঔষধ সেবন প্রভৃতির ফলে আমাশয় দেখা দিলে বা কোন প্রকার ক্ষরণ বন্ধ হইয়া যেমন ঘর্ম বন্ধ হইয়া আমাশয় হইলে নাক্স ভূমিকা উপকারী। বার বার মলত্যাগ করার ইচ্ছা, অথচ পায়খানা খুবই অল্প হয়। মলত্যাগ কালে বা তাহার পূর্বে অত্যন্ত কোঁথানি থাকে কিন্তু মলত্যাগের পর সামান্যক্ষণের জন্য কোঁথানি প্রভৃতি যাতনার নিবৃত্তি হয়। পায়খানার পূর্বে পেট বেদনা, পায়খানার পরে হ্রাস। আবার সামান্য পরেই ঐ বেদনা। রক্তসহ আঠা আঠা আম সরে। কখনও শুধু আম মিশ্রিত মল নির্গত হয়। মার্কসলে মলত্যাগের পূর্বে, সময়ে এবং পরেও পেট বেদনা থাকে। সালফারে মলত্যাগের পর কুন্থনে উপশম ও রক্তময় আমস্রাব না হইয়া আমের উপর সূত্রবৎ রেখা থাকিলে এবং পীড়া দুঃসাধ্য হইলে উপকার হয়। এলোতে আম পরিমাণে বেশী, মলত্যাগের পূর্বে তলপেটে কামড়ানি, মলে শুধু আম ও রক্ত থাকে।
উত্তর : প্রসব বেদনার সময় কোষ্ঠবদ্ধ, অতিশয় আক্ষেপিক তীব্র বেদনা, অনবরত মলমূত্র ত্যাগের প্রবৃত্তি, শিশুর মাথার ভারের দরুন বেদনা ছাড়া প্রতিক্ষিপ্ত কারণে বেদনার আধিক্যে ইহা উপকারী। বেদনার সময় ঘন ঘন মূর্ছার ভাব কিংবা বেদনা কোমর হইতে নামিয়া পাছা ও উরুতে নামিয়া থাকে। ঠিক পালসেটিলার লক্ষণের ন্যায় বেদনার প্রায় বা সম্যক বিরতি লক্ষণে ও রোগিণীর প্রকৃতি পালসেটিলার ন্যায় না হইয়া নাক্স ভমিকার ন্যায় হইলে নাক্স ভমিকা ব্যবহৃত হয়।
উত্তর : আহারের পর, মানসিক পরিশ্রমে, ক্রোধের ফলে, সকাল বেলায় নিদ্রার ব্যাঘাত ঘটিয়া, মানসিক আবেগে।
উত্তর : সন্ধ্যাকালে, বিশ্রামের ফলে, উত্তাপে, উষ্ণ আহারে।
উত্তর : সালফার, কেলি কার্ব, ক্যালক কার্ব, সিপিয়া, ব্রায়োনিয়া, আর্সেনিক।
উত্তর : সালফার, পালসেটিলা, সিপিয়া, আর্সেনিক, বেলেডোনা, ব্রায়োনিয়া, লাইকোপোডিয়াম, কলচিকাম, রাসটক্স, ফসফরাস, কার্বোভেজ।
উত্তর : ক্যামোমিল, ককুলাস, ক্যাম্পর, কফিয়া, ওপিয়াম, থুজা, একোনাইট, আর্সেনিক, বেলেডোনা, পালসেটিলা।
উত্তর : ১ হইতে ৭ দিন।
উত্তর : ১x হইতে ২০০ শক্তি।

Post a Comment